
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
এটাই রাজনীতির সৌন্দর্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, মতভেদ আছে, আদর্শিক দূরত্ব আছে,তবুও সম্মান আছে, সহাবস্থান আছে, এবং সর্বোপরি আছে জনগণের কল্যাণে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার।
জুমার নামাজের খুতবার আগ মুহূর্তে একই কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, এবং অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচন যখন দ্বারপ্রান্তে, তখন এমন একটি দৃশ্য নিছক কাকতালীয় নয়; এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী বার্তা।
রাজনীতিতে হারজিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সবাই একসাথে জিতবে না, আবার সবাই একসাথে হারবেও না। কিন্তু জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সেটিই প্রকৃত জয়।
নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষ যে ভালোবাসা ও আস্থা দুই প্রার্থীর প্রতিই দেখিয়েছেন, তা প্রমাণ করে এই আসনের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল এখনো মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে উজ্জ্বল।
এই ভালোবাসার প্রতিদান শুধু নির্বাচনী ভাষণে নয়, বাস্তব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দিতে হবে। নদীভাঙন কবলিত জনপদগুলোর দীর্ঘশ্বাস আজও থামেনি। মুছাপুর ক্লোজারের দ্রুত নির্মাণ সময়ের দাবি। জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, অবকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া এসব সমস্যা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং সবাইকে সমানভাবে ভোগায়। কাজেই নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেয়ালে আটকে রাখা যাবে না। জনগণের স্বার্থে সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। নির্বাচনের প্রাক্কালে নোয়াখালী-৫ যে সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছে তা দেশের অন্যান্য আসনের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই পরিবেশ ধরে রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; প্রার্থীদেরও নৈতিক দায় রয়েছে। তাঁদের একেকটি বক্তব্য, একেকটি আহ্বান মাঠপর্যায়ে কর্মীদের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাই কোনো ধরনের হামলা, আক্রমণ বা হিংসাত্মক আচরণ যেন না ঘটে,সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে শত্রু না ভেবে সহযাত্রী হিসেবে দেখার মধ্যে। আজকের প্রতিদ্বন্দ্বী কাল একই উন্নয়ন প্রকল্পে সহকর্মী হতে পারেন এমন মানসিকতাই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দেয়। নোয়াখালী-৫ আসন যদি এই চর্চাকে ধারাবাহিকভাবে লালন করতে পারে, তবে এটি কেবল একটি সংসদীয় আসনই থাকবে না; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি “মডেল আসন” হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
শেষ পর্যন্ত রাজনীতি ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয় এটি মানুষের আস্থা অর্জনের শিল্প। আর সেই শিল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল রঙ হলো পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও উন্নয়নের প্রতি যৌথ অঙ্গীকার। নোয়াখালী-৫ আজ সেই সম্ভাবনার এক আলোকিত
Leave a Reply